নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই হাসপাতাল থেকে শুরু হয় না; লড়াইটা শুরু হয় আমাদের ঘর ও আশপাশের পরিবেশ থেকে”— ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এ কথা বলেছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর)রাজধানীর শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে জেলা প্রশাসন, ঢাকার উদ্যোগে আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মনিরুজ্জামান মিঞা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-২-এর সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা এবং অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ আজমুল হক।
এ সময় শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার মাধ্যমে এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। এই লড়াইয়ের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হলো সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগ।”
তিনি বলেন, বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা আশপাশের যেকোনো স্থানে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননস্থল হতে পারে। তাই প্রতিদিন কয়েক মিনিট সময় নিয়ে নিজেদের ঘর, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
“কোথাও পানি জমে আছে কি না তা পরীক্ষা করে জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে। এতে এডিস মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব,” বলেন তিনি।

ডিসি ফরিদা বলেন, এক দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান দিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। পরিচ্ছন্নতাকে প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। জেলা প্রশাসন নিয়মিতভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা, তদারকি ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু প্রশাসনের অভিযান দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
“পরিবার থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি থেকে সামাজিক সংগঠন এবং গণমাধ্যম থেকে সাধারণ নাগরিক—সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন,” বলেন তিনি।
প্রতিটি পরিবারকে ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রথম দুর্গ এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সচেতনতার কেন্দ্রে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নাগরিকদের পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব নিতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, “তোমরাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তোমরা শুধু নিজেরা সচেতন হবে না, তোমাদের পরিবার, বন্ধু এবং প্রতিবেশীদেরও সচেতন করবে। তোমাদের একটি ছোট উদ্যোগ একটি পরিবারকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।”
গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সংবাদ, প্রতিবেদন ও প্রচারের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এক দিনের কর্মসূচির পাশাপাশি নিয়মিতভাবে ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
আলোচনা সভা শেষে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের সংলগ্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
সম্পাদকঃ মোঃ শাহীনুজ্জামান
সম্পাদকীয়ঃ ৩৩ তোপখানা রোড, মেহেরবা প্লাজা, লেবেল -১১ উত্তর পূর্ব সাইড জাতীয় প্রেসক্লাব ঢাকা- ১০০০।