রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি ইউরেনিয়ামের চালান বৃহস্পতিবার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা আসেনি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও এদিন ইউরেনিয়াম গ্রহণ করতে পারেনি বাংলাদেশ।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। আমরা এয়ারপোর্টে অপেক্ষা করছিলাম। ইউরেনিয়াম নিয়ে রাশিয়া থেকে কার্গো বিমান না আসায় আমরা রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমাদের জানান যে, এয়ার স্পেস ক্লিয়ার নেই। কার্গো বিমান আসেনি।’
আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি কেন মেলেনি, সে বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বিস্তারিত কিছু বলতে পারেননি।
রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কমিশন রোসাটমের সহায়তায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। ইউরেনিয়ামের চালান না আসার কারণ জানতে রোসাটমের এক প্রতিনিধির কাছে বাংলাদেশ প্রতিদিনের পক্ষ থেকে ই-মেইল করা হলেও বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে পদ্মা নদীর তীরে রূপপুর গ্রামে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে। দুটি ইউনিটে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
২০২৩ সালে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি ইউরেনিয়ামের চালান দেশে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করে।
ওই সময়ে রোসাটমের প্লান্টে তৈরি জ্বালানি কড়া আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অধীনে একটি ভারী রাশিয়ান কার্গো বিমানযোগে সরাসরি ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছে। রাজধানী থেকে বিকিরণ সুরক্ষিত কনটেইনারগুলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় দীর্ঘ একটি গ্রিন করিডোর দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে একটি আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর অনুষ্ঠানও হয়েছিল।
সম্পাদকঃ মোঃ শাহীনুজ্জামান
সম্পাদকীয়ঃ ৩৩ তোপখানা রোড, মেহেরবা প্লাজা, লেবেল -১১ উত্তর পূর্ব সাইড জাতীয় প্রেসক্লাব ঢাকা- ১০০০।