শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তুহিন আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি বিস্তারিত পোস্ট দেন আসাদুল্লাহ সোহাগ নামের ওই তরুণ।
ফেসবুক পোস্টে সোহাগ দাবি করেন, তুহিন তাকেও একইভাবে কৌশলে ডেকে নিয়ে তার মোটরসাইকেলটি আত্মসাৎ করেছিল। তিনি লেখেন, "চোর তুহিন থেকে আজকে সে খুনি তুহিন! আমাকে ডেকে নিয়ে কৌশলে বাইকটি নিয়ে যায়। সদর দক্ষিণ থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে শুধু একটি জিডি নেয়। কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো পুলিশ বলেছিল—ওর মাথার ওপর রাজনৈতিক বড় নেতার হাত আছে, ওকে যেন কিছু না করা হয়। ছোট অপরাধ পার পেয়ে গেলে অপরাধীরা পরবর্তীতে বড় অপরাধ করার সাহস পায়।"
পোস্টের সত্যতার প্রমাণ হিসেবে তিনি থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগের অনুলিপি, খোয়া যাওয়া বাইকের ছবি এবং তুহিনের ছবি যুক্ত করেন।
এদিকে জেলা পুলিশের একটি গোপন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার সময় তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটি আটক তুহিনের বাড়ি থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মূল্যবান আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানাতে আজ রোববার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত তুহিন ও আনাস নামে দুজনকে আটক করার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর বাইরে ফাহিম নামে আরও একজনকে আটকের তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়ালেও রাত পৌনে ১২টা পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
উল্লেখ্য, নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র ছেলে। সে কোটবাড়ি বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সে। পরে নিখোঁজের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেট সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা গ্রামের একটি ঝোপ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
