বিনোদন দেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সমঝোতা নিয়ে দর কষাকষির মধ্যে অনলাইনে যোগাযোগের জন্য ইরানের কূটনৈতিক মিশনগুলো একটি অপ্রত্যাশিত উপায় খুঁজে পেয়েছে। তারা ভারতীয় চলচ্চিত্রের অ্যাকশনভিত্তিক বিভিন্ন ভিডিও শেয়ার করছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের জবাবে তেলুগু তারকা নান্দামুরি বালাকৃষ্ণের একটি জোরালো দৃশ্য শেয়ার করে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ভাষণের প্রেক্ষিতে হায়দারাবাদ অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট এবার প্রভাসের ‘বাহুবলী’ সিনেমার শরণাপন্ন হয়েছে। তাদের সাম্প্রতিক পোস্টে এস.এস. রাজামৌলির ‘বাহুবলী: দ্য বিগিনিং’ সিনেমার অন্যতম স্মরণীয় যুদ্ধের দৃশ্যটি তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে প্রভাসের চরিত্রটিকে কালাকেয় বাহিনীর মোকাবিলা করতে দেখা যায়।
কনস্যুলেটটি এই ক্লিপটির সাথে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদে পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের প্রসঙ্গটি যুক্ত করেছে। পোস্টটিতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রেসিডেন্ট ড. পেজেশকিয়ান বলেছেন, ‘আমরা কখনোই মাথা নত করব না বা হাঁটু গেড়ে বসব না’। আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং ভারতীয় ব্লকবাস্টার সিনেমার এই অপ্রত্যাশিত সংমিশ্রণটি দ্রুত অনলাইনে সবার নজর কাড়ে এবং ব্যবহারকারীরা ‘বাহুবলী’-র এই অভিনব ব্যবহারের বিষয়ে নানা প্রতিক্রিয়া জানান।
শুরুটা হয়েছিল বালাকৃষ্ণাকে দিয়ে
তেলুগু চলচ্চিত্রের প্রসঙ্গ টানার ঘটনা ইরানের কোনো কূটনৈতিক মিশনের ক্ষেত্রে এটিই প্রথম নয়। গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ইরানের বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর জিম্বাবুয়েতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস বালাকৃষ্ণের ২০২৩ সালের চলচ্চিত্র ‘ভাগবন্ত কেশরী’-র ৫৮ সেকেন্ডের একটি অ্যাকশন দৃশ্য শেয়ার করেছিল।
পোস্টটিতে বালাকৃষ্ণের চরিত্রটিকে সশস্ত্র আক্রমণকারীদের মোকাবিলা করতে দেখা যায় এবং এতে বার্তা দেওয়া হয়, ইরান ‘অসহায় নয়’। এছাড়া রসিকতা করে দাবি করা হয়, আমেরিকানরা ইদানীং ‘হলিউডের বদলে বলিউড’ দেখছে।
এতে একটি মজার বিষয়ও ছিল, ‘ভাগবন্ত কেশরী’ আসলে একটি তেলুগু ভাষার চলচ্চিত্র, কোনো বলিউড প্রযোজনা নয়। ভারতীয় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা দ্রুতই এই ভুলটি ধরে ফেলেন।
পরবর্তীতে হায়দারাবাদে অবস্থিত ইরানি মিশনও এই আলোচনায় যোগ দেয়। তারা বালাকৃষ্ণের সেই একই ক্লিপ শেয়ার করে তেলুগু চলচ্চিত্রের প্রশংসা করে বলে, তেলুগু সিনেমা হলো সর্বকালের সেরা। আর এখন মাত্র কয়েক দিন পরেই, ‘বাহুবলী’ নিয়ে আলোচনায় যুক্ত হলেন প্রভাস।
কেন ‘বাহুবলী’? এই ক্লিপটি ২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বাহুবলী: দ্য বিগিনিং’ সিনেমার অন্যতম প্রধান একটি অ্যাকশন দৃশ্য থেকে নেওয়া হয়েছে। সিনেমায় প্রভাসের অভিনীত চরিত্র ‘শিবুডু’-র কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে সে মাহিশ্মতী রাজ্য এবং নিজের রাজপরিবারের সাথে তার সম্পর্কের বিষয়টি আবিষ্কার করে। সারা ভারতজুড়ে ব্যাপক সাফল্য পাওয়া এই সিনেমার পরবর্তী কিস্তি হিসেবে ২০১৭ সালে মুক্তি পায় ‘বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন’।
সর্বশেষ এই পোস্টটির মাধ্যমে ইরানের কূটনৈতিক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো তাদের বার্তা উপস্থাপনের জন্য আবারও ভারতীয় পপ-কালচার বা জনপ্রিয় সংস্কৃতির এক অনন্য উপায় বেছে নিয়েছে। এবার তারা বালাকৃষ্ণের অতি-নাটকীয় অ্যাকশন দৃশ্যের পরিবর্তে প্রভাসের আইকনিক ‘বাহুবলী’ যুদ্ধের দৃশ্যটি ব্যবহার করেছে।
কনস্যুলেটের এই পোস্টটি ২০১৫ সালের সিনেমাটিকে এক অপ্রত্যাশিত ভূমিকা এনে দিয়েছে। হায়দারাবাদ থেকে পাঠানো কূটনৈতিক বার্তায় পপ-কালচারের একটি অনুষঙ্গ হিসেবে।
সম্পাদকঃ মোঃ শাহীনুজ্জামান
সম্পাদকীয়ঃ ৩৩ তোপখানা রোড, মেহেরবা প্লাজা, লেবেল -১১ উত্তর পূর্ব সাইড জাতীয় প্রেসক্লাব ঢাকা- ১০০০।