ডেস্ক নিউজ : কুষ্টিয়া জেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন পার করছেন জেলার অভিভাবক ও বাসিন্দারা।
স্বাস্থ্য বিভাগের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার (৩মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সচেতন মহলে ‘আউটব্রেক’ বা বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়া জেলায় নতুন করে আরও ৩৫ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৪ জন। এর মধ্যে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছে ২৪ জন, আর ছাড়পত্র নিয়ে গেছে ১৯জন। বর্তমানে মোট ভর্তি রয়েছে ৯৮ জন। অপরদিকে কুষ্টিয়া ২৫০শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নতুন ভর্তি ৬ জন, ছাড়পত্র নিয়ে গেছে ১২ জন, মোট ভর্তি রয়েছে ২৪ জন।
এছাড়া কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩ জন এবং ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন নতুন হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। অন্যদিক মিরপুর, দৌলতপুর, খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন করে কোন রোগী ভর্তি হয়নি।
যদিও গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো নিশ্চিত হামের রোগী বা মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি, তবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০ জনের কাছাকাছি নতুন রোগী শনাক্ত হওয়া পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে পহেলা ১ মে পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কুষ্টিয়ায় এ পর্যন্ত সর্বমোট ৯৭৭ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে জেলায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এখন পর্যন্ত মোট ৮৪৮ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও সংক্রমণের হার নিম্নমুখী না হওয়ায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শিশুদের জ্বর ও শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলেই অভিভাবকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।
কুষ্টিয়া শহরের এক অভিভাবক জানান, "চারপাশে যে হারে হামের কথা শুনছি, তাতে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় লাগছে। আমরা চাই দ্রুত এর কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।" শহরের স্টেডিয়ামপাড়া এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন জানান, তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে আলিফ উদ্দিনের প্রথমে জ্বর আসে। তারপর হামের উপস্থিতি দেখা দিয়েছে। তাই দ্রুত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
অপরদিকে সচেতন নাগরিক সমাজের মতে, হামের এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এটি কেবল সাধারণ কোনো সংক্রমণ নয়, বরং একটি বড় প্রাদুর্ভাবের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং আক্রান্তদের দ্রুত আইসোলেশনের আওতায় আনা জরুরি। স্বাস্থ্য বিভাগকে বিষয়টি অতি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে আক্রান্ত এলাকায় জরুরি মেডিকেল টিম মোতায়েন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে জানান, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া জ্বর, সর্দি-কাশি এবং শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সম্পাদকঃ মোঃ শাহীনুজ্জামান
প্রকাশকঃ এস এম নজরুল ইসলাম বাবু
সম্পাদকীয়ঃ ৩৩ তোপখানা রোড, মেহেরবা প্লাজা, লেবেল -১১ উত্তর পূর্ব সাইড জাতীয় প্রেসক্লাব ঢাকা- ১০০০।