আন্তর্জাতিক ডেস্ক : লেবানন সীমান্তসংলগ্ন উত্তর ইসরায়েলে বিস্ফোরণে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, আগে থেকে পড়ে থাকা অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ থেকেই এ বিস্ফোরণের সূত্রপাত। ঘটনার পর অধিকৃত পশ্চিম তীরে নির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে মানারা ও ইফতাহ বসতির মধ্যবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নে’ওত মর্দেখাই সম্প্রদায়ের বসতির কাছাকাছি বিস্ফোরণটি ঘটে।
খবর পেয়ে ইসরায়েলের জাতীয় জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স পাঠায়। সংস্থাটির চিকিৎসাকর্মীরা জানান, আহতদের মধ্যে অন্তত আটজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তুলনামূলক কম আঘাত পাওয়া আরও বেশ কয়েকজনকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক সেবা দেওয়া হয়েছে।
বিস্ফোরণের পর কিরিয়াত শমোনা জেলার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেন। বিস্ফোরণের উৎস শনাক্ত করতে কাজ করছেন বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের বিশেষজ্ঞরা।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক নূর ওদেহ জানিয়েছেন, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
তার ভাষ্য, ‘তবে ঘটনাটি আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল বিশেষ করে লেবানন সীমান্তে এখনো সামরিক অভিযান চলমান। সেখানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। গত তিন বছরে ওই এলাকায় হাজার হাজার গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছে।’
বিস্ফোরণের পর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট মহলেও তৎপরতা দেখা যায়। নেতানিয়াহুর পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভিরও তার নির্ধারিত রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিল করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালাতে শুরু করে। সংঘাতের কারণে ওই অঞ্চলের কয়েক হাজার বাসিন্দা নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন।
এরপর মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। একপর্যায়ে দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকা দখলে নেয় ইসরায়েলি বাহিনী। উত্তর ইসরায়েলের ওই অঞ্চল থেকেই লেবাননে হামলা চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহও সীমান্তের ওপার থেকে মাঝেমধ্যে রকেট নিক্ষেপ করছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে সেনাসদস্য ও হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। নূর ওদেহের মতে, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে উত্তর ইসরায়েলের অনেক বাসিন্দা এখনো নিজেদের এলাকায় ফিরে যাননি। তাদের একাংশের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের সক্ষমতা নিয়ে আস্থার সংকট রয়েছে।
সম্পাদকঃ মোঃ শাহীনুজ্জামান
সম্পাদকীয়ঃ ৩৩ তোপখানা রোড, মেহেরবা প্লাজা, লেবেল -১১ উত্তর পূর্ব সাইড জাতীয় প্রেসক্লাব ঢাকা- ১০০০।