
গত বৃহস্পতিবার সান দিয়েগোতে আয়োজিত এক আবেগঘন গণশুনানিতে ভারপ্রাপ্ত নৌসচিব হাং কাও-এর মুখোমুখি হন জাহাজে থাকা সেনাদের প্রায় ২০০ স্বজন। জ্যেষ্ঠ নৌ কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে এক স্ত্রী জানান, তার স্বামী লাফ দেওয়ার দিনই মেসেজ পাঠিয়ে বলেছেন—‘তিনি আশা করেন কাল সকালে যেন তার আর ঘুম না ভাঙে!’ আরেকজন স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মার্কিন নৌবাহিনীর এই অবিবেচক সিদ্ধান্ত নেতৃত্ব ও সাধারণ সেনাদের পরিবারের মধ্যকার দীর্ঘদিনের আস্থা পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছে।
মিলিটারি টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বারবার মেয়াদের মেয়াদ বাড়ানোয় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে আনাবেল লোমা নামে এক নারীর স্বামী জাহাজ থেকে সাগরে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। ওই নারী জানান, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে অবসাদে ভুগছেন এবং ১৩ বছরের ক্যারিয়ার নষ্ট হওয়ার ভয়ে চরম আতঙ্কে আছেন। অন্য আরেকটি ঘটনায়, এক সেনাসদস্য তার এক সহকর্মীকে সাগরে লাফ দেওয়া থেকে টেনে ধরে প্রাণ বাঁচান।
গত বছরের ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল যুদ্ধজাহাজটি।
দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার পাশাপাশি জাহাজের অমানবিক জীবনযাত্রা সেনাদের ঠেলে দিয়েছে এক চূড়ান্ত নরকে। ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসমেম্বার মাইক লেভিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জাহাজের বর্তমান করুণ চিত্র তুলে ধরেছেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী, জাহাজে রয়েছে ছত্রাক ধরা বাথরুম, দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট পড়ে থাকা টয়লেট ও ওয়াশিং মেশিন এবং গরম পানির প্রচণ্ড অভাব। এমনকি খাবার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে মাত্র আধা কাপ ভাত ও দুটি রুটি। সাবান, পেস্ট ও ডিওডোরেন্টের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে সেখানে।
এর আগে এপ্রিলে নিম্নমানের খাবার ও পানির সংকটের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ সেটিকে ‘ফেক নিউজ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
তবে এবার হেগসেথকে কড়া জবাব দিয়েছেন লেভিন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই তরুণ-তরুণীরা দেশের সেবা করতে এসেছে। রাষ্ট্র হিসেবে তাদের ন্যূনতম পাওনা—একটি ভাল টয়লেট, গরম পানি আর পেটে চারটে ভালো খাবার দেওয়া। হেগসেথ তার ব্যবস্থাপনাটুকুও করতে ব্যর্থ হয়েছেন, অথচ স্বজনদের চোখের দিকে তাকিয়ে তাদের মিথ্যাবাদী বলতে তার বাঁধছে না!’
সম্পাদকঃ মোঃ শাহীনুজ্জামান
সম্পাদকীয়ঃ ৩৩ তোপখানা রোড, মেহেরবা প্লাজা, লেবেল -১১ উত্তর পূর্ব সাইড জাতীয় প্রেসক্লাব ঢাকা- ১০০০।